ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস, History of FIFA World Cup

shohidulen 09 May 2018

প্রতি ৪ বছর পর পর বসে ফুটবল বিশ্বকাপ। যাতে অংশ নেয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সেরা ফুটবল তারকারা। এই ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনা থাকে চরম তুঙ্গে। আর সারাবিশ্ব জুড়ে ফুটবল ভক্তদের এই চরম উন্মাদনার জন্যই এই টুর্নামেন্টকে দা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ নামে অভিহিত করা হয়।আমরা কি জানি কিভাবে আসলো এই ফুটবল বিশ্বকাপ? আজকে আমরা অলিম্পাস বিডির পক্ষ থেকে দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন দা আর্থ অর্থাৎ ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ আপনাদের সামনে তুলে ধরব। ১৯০৪ সালে ফিফা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে অথবা এর অনেক বছর পর ও দীর্ঘ সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের কোন টুর্নামেন্ট এর আয়োজন হয়নি। আর ফুটবল বিশ্বকাপ তো অনেক দূরের কথা। সে সময়ে ফুটবলের টুর্নামেন্ট বলতে শুধু অলিম্পিকে এ খেলার অন্তর্ভুক্তি ছিল। তাও ১৯০৮ সালের অলিম্পিকে ফুটবল প্রথম আনুষ্ঠানিক খেলার মর্যাদা পায়।

এর পর ১৯২৮ সালে সর্বপ্রথম ফিফা সভাপতি জুলেরিমে অলিম্পিকের বাইরে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করেন। এবং পরবর্তীতে সে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই ফলশ্রুতিতে সর্বপ্রথম ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে ফিফার প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। যা এখনো চলমান।১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। এরপর ১৯৩৪,১৯৩৮ সালে চার বছর পর পর ফিফার এই বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট আয়োজন হয়। ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে ২য় বিশ্বযুদ্ধের কারণে বিশ্বকাপ ফুটবলের এই টুর্নামেন্ট বন্ধ ছিল । ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপের ট্রফি ১ম ‍ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজক  ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমের নামে নাম করণ করা হয়। ১৯৩০-১৯৭০ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপ বিজয়ী দলকে এই জুলে রিমে ট্রফি প্রদান করা হত। এর পর দীর্ঘ বিরতিতে ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপের ৪র্থ আসর বসে। এ বিশ্বকাপে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে  ভারতকে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু ভারত সে প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। যার ফলে যথেষ্ট ভাল না খেলায় এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি ভারত। এজন্য এখনও হায়হুতাশ করতে পারে ভারতীয়রা। ১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ডে বসে বিশ্ব ফুটবলের ৫ম আসর।

১৯৫৮, ১৯৬২, ও ১৯৭০ সালে ব্রাজিল সর্বাধিক তিন বার বিশ্বকাপ ফুটবলে শিরোপা জেতার কারণে জুলে রিমে ট্রফি তাদের চিরদিনের জন্য দিয়ে দেওয়া হয়। এসময় উত্থান ঘটে বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়ার পেলের।  যদিও ১৯৮৩ সালে এই জুলেরিমে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। যা আর উদ্ধার করা যায়নি। এর পরই তৈরী হয় বর্তমান ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। যার ভিত্তির নিচে ১৯৭৪ থেকে এখন পর্যন্ত সকল বিশ্বকাপ জয়ীর নাম লেখা থাকে। মজার কথা হয়তো ২০৩৮ সালে এর ভিত্তিতে বিজয়ী দলের নাম লেখার মত জায়গা থাকবে না। এজন্য হয়তোবা তখন এ ট্রফিটি বাদ দেওয়া হবে। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপের ৮ম আসর বসে। এরপর ১৯৭০ ও ১৯৭৪ সালে মেক্সিকো ও জার্মানিতে বসে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর। ১৯৭৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা প্রথমবারের মত আয়োজক দেশ হয়।এবং তারা নিজেদের ১ম বিশ্বকাপ জয় করে এ বিশ্বকাপে। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় স্পেনে। এ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৪ করা হয়।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে বিশ্ব পরিচিত হয় বিশ্বফুটবলের আরেক কিংবদন্তি ম্যারাডোনার সাথে। যিনি একক নৈপুন্যে আর্জেন্টিনাকে ২য় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতিয়েছেন ।এবং এসময় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার হাত দিয়ে বিতর্কিত গোল হ্যান্ড অফ দা গড এর জন্য তিনি বিতর্কিত হন। এরপ ১৯৯০ ও ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় যথাক্রমে ইতালি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে মূলপর্বে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩২ এ উন্নীত করা হয়। ২০০২ সালের বিশ্বকাপে যৌথভাবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতে এ বিশ্বকাপ  অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে জার্মানিতে বিশ্বকাপের অষ্টাদশ শিরোপা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর ২০১০ ও ২০১৪ সালে যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসে।

এখন ২০১৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে । কিছুদিন পরই রাশিয়ায় শুরু হবে ফিফার একুশতম এই আসর। ১৯৩০ থেকে ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ পর্যন্ত অসংখ্য তারকা খেলোয়ার জন্ম নিয়েছেন ফিফা বিশ্বকাপের মাধ্যমে। পূর্বে পেলে, ম্যারাডোনা থেকে হালের মেসি, রোনালদো,নেইমার পর্যন্ত সবাই অংশ নিয়ে থাকেন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে। আমরা আশা করছি এবার ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপেও বিশ্ব পাবে নতুন কিছু তারকা ফুটবলার। ১৯৩০-২০১৪ সাল পর্যন্ত এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফুটবলের মোট ২০টি আসর বসেছে। এতে সর্বাধিক ৫বার শিরোপা জিতেছে ব্রাজিল, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪বার করে শিরোপা জিতেছে যথাক্রমে জার্মানী ও ইতালি।এছাড়া উরুগুয়ে ও আজেন্টিনা ২বার করে এবং ফ্রান্স,ইংল্যান্ড ও স্পেন একবার করে শিরোপা জিতেছে।

খবরটি পঠিত হয়েছে 425 বার