রোগীকে অজ্ঞান করে রেখে যা করল এই ডাক্তার!!!

shohidulen 14 January 2019

সমাজে সবার কাছে ডাক্তাররা সম্মানিত। যেকোন ধরনের রোগব্যাধিতে মানুষ ছুটে যায় ডাক্তারের কাছে। সুস্থতার জন্য চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে তাদেরকে। অসুস্থতা বাঁ দূর্ঘটনার কারণে মানুষের যখন সার্জারির প্রয়োজন হয় তখন অন্ধ বিশ্বাসে তারা নিজেদের সপে দেন সে ডাক্তারের হাতে।

সম্প্রতি এই সার্জারি করতে যেয়েই এক ডাক্তার ঘটিয়েছেন এক অবিশ্বাস্য কান্ড। দূর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে এক ব্যক্তি হাস্পাতালে আসলে তাকে দ্রুত অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার এসেই অপারেশন শুরু করেন। অপারেশন টা ছিলো বেশ জটিল। তাই সময়ও লাগছিলো অনেক। একসময় অপারেশনের মাঝখানেই ডাক্তার রোগীর পাশে ঘুমিয়ে পড়ে। পাশে থাকা এক নার্স ঘুমিয়ে পরা ডাক্তারের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

জানা যায় দীর্ঘ ২০ ঘন্টা একটানা অপারেশন করায় ডাক্তার সেদিন ছিলেন বেশ ক্লান্ত। এটা ছিলো তার সেদিনের পঞ্চম অপারেশন।  ডিউটি শেষ করে ডাক্তার বাসায় ফিরে বিশ্রাম নেয়ার কথা ভাবছিলেন। ঠিক সেই মুহুর্তেই এই মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত রোগী হাস্পাতালে আসে। রোগীর অবস্থা তখন বেশ গুরুতর। তক্ষুনী অপারেশন শুরু না করলে রোগীকে বাচানোই যাবে না এমন অবস্থা।

তাই ডাক্তার সমস্ত ক্লান্তি ভুলে তখনই অপারেশন থিয়েটারে যান এবং অপারেশন শুরু করেন। অপারেশনটি ছিলো বেশ জটিল। তাই একটু একটু করে অস্ত্রপচার করছিলেন তিনি। আর এক এক বার অস্ত্রপচারের পর লম্বা সময়ের বিরতি দিতে হচ্ছিল রোগীকে ঠিক রাখার জন্য। সেরকমই এক বিরতির মাঝখানে ক্লান্তি দূর করার জন্য একটু ঘুমিয়ে নেন এ ডাক্তার। তার ঘুমিয়ে পড়া এই ছবিই ছরিয়ে পরে ইন্টারনেটে।

তবে এ ঘটনায় মানুষ কিন্তু মোটেও চটে যায়নি। বরং ডাক্তারের প্রশংসার বন্যায় ভেসে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। রাতারাতি নায়ক হয়ে গেছেন তিনি সবার কাছে। বিভিন্ন দেশের পত্র পত্রিকায় আর টিভিতে এ খবর প্রচারিত হয়েছে।

তবে কেউ কেউ এ ঘটনার সমালোচনাও করেছেন। তাদের মতে হাসপাতাল কতৃপক্ষের কোনভাবেই উচিত হয়নি সে ডাক্তারকে দিয়ে একটানা এত লম্বা সময় কাজ করানো।

তারা এ ধরণের কাজের বিরোধিতা করেছেন।

তবে বেশিরভাগ মানুষই যে এ কাজকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে তাতে সন্দেহ নেই।

ঘটনাটি ঘটেছে চীনে। আর রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া এ ডাক্তারের নাম লুও হেং। জানা গেছে তিনি আগে থেকেই তার কাজের প্রতি অনেক আন্তরিক। এর আগেও তিনি রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য প্রায়ই হাস্পাতালের মেঝেতে ঘুমিয়েছেন।

ডাক্তারদের মন মানসিকতা যদি এমন হত তাহলে রোগীদের দূর্ভোগ অনেক কমে যেত। আমরা আশা করবো পৃথিবীজুড়ে সব ডাক্তারই মানুষের সেবায় এরকমই নজির রাখবে।

খবরটি পঠিত হয়েছে 500 বার