দুবাই সম্পর্কে কিছু বিস্ময়কর ও অজনা ঘটনা….

shohidulen 24 January 2019

সবাইকে স্বাগতম. আজ আমরা বিলাসিতা, ব্যয়বহুল গাড়ি এবং সুউচ্চ দালানের একটি শহর সম্পর্কে কথা বলব। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই অনুমান করেছিলেন। আমরা দুবাই সম্পর্কে কথা বলছি। ভ্রমন পিপাসুদের তীর্থস্থান।দুবাই এর কথা শোনেনি এমন মানুষ খুজে পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে যাবে। তবে আমি নিশ্চিত আজ আমি আপনাদের যা বলতে যাচ্ছি তা খুব কম মানুষই জানে। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক সেসব অজানা তথ্য।

নাম্বার ১: দুবাই একটি দেশ।

অনেকে মনে করেন দুবাই একটি দেশ। যা একটি ভুল ধারনা! দুবাই একটি দেশ নয়, এটি শুধু একটি শহর। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাত বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনবহুল শহর। দুবাই একটি বিশ্বব্যাপী শহর। এটি মধ্য প্রাচ্যের ব্যবসা কেন্দ্র।

নাম্বার ২: দুবাই একটি রাজধানী।

দুবাই যেমন একটি দেশ নয় আবার দুবাই রাজধানীও নয়। অনেক লোকের এই ভুল ধারণা রয়েছে যে দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আবুধাবি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী।

নাম্বার ৩: উন্নয়ন এবং পর্যটন।

তেল বিক্রি করে দুবাইয়ের এত উন্নতি। কিন্তু, আজকাল তাদের তেলের মজুদ হ্রাস পাচ্ছে এবং তারা পর্যটন খাতে আরও বেশি জোর দিচ্ছে। দুবাই বিশ্বের চতুর্থ সর্বাধিক পরিদর্শিত দেশ। ২০১৮ সালে ১৫.৮ মিলিয়ন মানুষ দুবাই ভ্রমন করেছিল যা একটি রেকর্ড। ২০২০ সালের মধ্যে ২০ মিলিয়ন অতিথিকে স্বাগত জানানোর জন্য তারা পর্যটন ২০২০ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

নাম্বার ৪:দুবাইয়ের ভাষা।

দুবাইতে বাস করতে হলে আরবি শিখতে হবে না। ইংরেজি এই শহরে একটি খুব সাধারণ কথ্য ভাষা।

নাম্বার ৫: দুবাইয়ে তেলের পরিমান।

রিজার্ভে প্রায় ৪ বিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে দুবাইএ! এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রিজার্ভ। যদিও এই পরিমাণটি অনেক, তবে পরবর্তী ২০ বছরে এটি শেষ খয়ে যাবে।

নাম্বার ৬:তেল উৎপাদন ক্ষমতা।

দুবাই প্রতিদিন প্রতিদিন ১১২.৫ মিলিয়ন লিটার তেল উৎপাদন করে। এটি ২ কোটি ৯৭ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ গ্যালন তেল সমান। এ পরিমান তেল ধারণ করতে পাচটি অলিম্পিক সুইমিংপুল লাগবে। যা এক প্রকার অবিশ্বাস্য!

নাম্বার ৭: বুর্জ খলিফা।

যদি আপনি দুবাই সম্পর্কে জানেন তবে আপনি নিশ্চয়ই বুর্জ খলিফার নাম শুনেছেন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা দালান। বুর্জ খলিফাকে প্রথমে বুর্জ দুবাই নামক নামকরণ করা হয় তবে পরে আবুধাবি শাসক ও ইউএইয়ের রাষ্ট্রপতি খলিফা বিন জায়েদ আল নঈহানের সম্মানে বুর্জ খলিফার নাম পরিবর্তিত হয়।

যদিও বুর্জ খলিফা ৮২৮.৮ মিটার উচু একটি দালান। এর প্রকৃত উচ্চতা ৫৮৪ মিটার। বাকী কাঠামো শুধু স্থাপত্য সৌন্দর্য জন্য। এই বিল্ডিং এর এক তৃতীয়াংশ বা ২৯ শতাংশ অকেজো।

নাম্বার ৮ : অবিশ্বাস্য দুবাই ল্যান্ড।

দুবাই একটি বিনোদন পার্ক নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। এর জন্য, তারা ডিজনিল্যান্ডে গিয়েছিল এবং ডিজনিল্যান্ডের মত একটি পার্ক নির্মাণের অনুরোধ করেছিল। যখন ডিজনি কর্তৃপক্ষ তা করতে অস্বীকার করেছিল তখন তারা দুবাইল্যান্ড তৈরি করেছিল যা ডিজনিল্যান্ডের আকারের দ্বিগুণ। এই দুবাইল্যান্ড নির্মাণে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলার লেগেছে।

নাম্বার ৯: অপরাধের হার।

দুবাইতে অপরাধ হার খুব কম। সুতরাং, এটি বিশ্বের নিরাপদ শহরগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়। কঠোর আইন এবং মানুষের উচ্চ মনোবল এই কম অপরাধ হারের পিছনের কারণ।

নাম্বার ১০: কর দেওয়া।

কেউ কর দেয়া পছন্দ করে না। এবং যদি আপনি তাদের একজন হন তবে দুবাই আপনার জন্য সেরা স্থান। দুবাইতে কোনো আয়কর নেই।

নাম্বার ১১: বিশ্ব বিখ্যাত দুবাই মল।

দুবাই কেনাকাটা করার জন্য বিখ্যাত। দুবাই মল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শপিং সেন্টার। এতে ৫,৪০০,০০০ বর্গফুট এলাকা এবং ১২০০ এর বেশী স্টোর রয়েছে। এখান থেকে আপনি প্রায় সবকিছু কেনাকাটা করতে পারেন।

নাম্বার ১২: জনসংখ্যা বৃদ্ধি।

আমরা মনে করি অত্যধিক জনসংখ্যা একটি অভিশাপ। দুবাই মানুষ একমত নাও হতে পারে না। দুবাই বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান শহরগুলির মধ্যে একটি। জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার এখানেবার্ষিক ১০.৭ শতাংশ।

নাম্বার ১৩: গাড়ির কবরস্থান।

দুবাইএ বিলাসবহুল গাড়ির কবরস্থান আছে। ফেরারী, পোর্শে, জাগুয়ার, অডি, বিএমডব্লিউ এই বিরল গাড়িগুলি পাওয়া যাবে পরিত্যক্ত অবস্থায়। বিস্ময়করভাবে, আপনি এখনও সেই গাড়িগুলোর ইগনিশনে চাবিগুলো ঝুলে আছে দেখবেন।।

নাম্বার ১৪: কৃত্রিম দ্বীপ।

দুবাই এ একটি কৃত্রিম দ্বীপ আছে। অবাক হলেন? না, আমি মজা করছি না। এর নাম পাম জুমিরাহ। এটা পারস্য উপসাগরের মধ্যে নির্মিত। এই দ্বীপটি এত বিশাল যে এটি মহাকাশ থেকে দেখা যায়।

নাম্বার ১৫: নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহন।

আপনি হয়তো মনে করেন দুবাইতে অ্যালকোহল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ কারণ এটি একটি মুসলিম দেশ। কিন্তু না, যদি আপনি অ্যালকোহল লাইসেন্স পান তবে এই শহরটি আপনাকে পান করতে দেবে। যদিও কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সটি সবসময় পরীক্ষা করে না। তাই প্রাপ্তবয়স্ক যে কেঊ এখানে মদ্যপান করতে পারে। শুধু মাতাল হয়ে কোন গন্ডগোল না করলেই হল। নাহলে বড় বিপদে পরবেন।

নাম্বার ১৬: স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সি।

আপনি কি কখনও কোন ড্রাইভারহীন ট্যাক্সি ডেকেছেন যা আপনার বাড়ির দোরগোড়ায় আসে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে শুরু করে? মনে হয় না। দুবাই এই সেবা চালু করা প্রথম দেশ। এটি মূলত একটি দুই আসন বিশিষ্ট ড্রোন ট্যাক্সি যা যাত্রীকে এক জায়গায় অন্য জায়গায় আকাশ পথে নিয়ে যাবে।

নাম্বার ১৭: পুলিশের গাড়ির ধরন।

দুবাই পুলিশ বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল গাড়ি ব্যবহার করে। এদের মধ্যে কয়েকটি গাড়ি অডি আর৮, ভি ১০,বুগাট্টি ওয়েরন, এস্টন মার্টিন ওয়ান ৭৭, মার্সেডিজ-বেঞ্জ, ফেরারী এফএফ, ল্যাম্বরগিনি এভেন্টডোর, বিএমডাব্লিউ আই ৮  ইত্যাদি।

নাম্বার ১৮: বিশ্বমন্দার প্রভাব।

এই শহরটি যতই অভিনব হোক না কেন, এই শহরটিতে থাকতে বা ব্যবসা করার আগে সাবধানে চিন্তা করতে হবে। দুবাই অর্থনীতি এখন বেশ ঝামেলার মধ্যেই আছে। অস্থিতিশীল তেলের বাজার আর বিশ্ব মন্দার প্রভাব বেশ ভালোই পড়েছে এ শহরে।

প্রিয় পাঠক, সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। বিষয়টি ভাল লাগলে আমরা আশা করি আপনি আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করবেন এবং এই লেখাটি শেয়ার করে এবং অন্যদের এই তথ্য জানতে সহায়তা করুন। দেখা হবে পরবর্তীতে আজকের মত বিদায়।  ধন্যবাদ।

খবরটি পঠিত হয়েছে 492 বার